গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ২০২৫
প্রিয় পাঠক অনলাইনের জগতে আমরা প্রায়ই অনেকেই গুগল এডসেন্স নামটি শুনে থাকি। বিশেষ করে যারা মূলত অনলাইনে ইউটিউবিং কিংবা ব্লগিং করি তাদের জন্য অবশ্যই গুগল এডসেন্স নামটি সোনা আবশ্যকীয় প্রয়োজন। কেননা গুগোল থেকে যে টাকা ইনকাম করতে হয় সেটা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
ভূমিকা
আজকের এই প্রতিনেদনে আমরা মূলত গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার উপায় সম্পর্কে নিয়ে আলোচনা করব। অনেকেই ব্লগিং জগতে কিংবা ইউটিউব এর জগতে আসতে চাই কিন্তু অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ না হয় নিজেকে ব্যর্থ মনে করে।কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। এবং সেগুলো ভালোভাবে বুঝে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে কাজকর্মগুলো আপনার প্লাটফর্মে করে গুগল এডসেন্স সহজে অ্যাপ্রুভ পাওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার উপায়
প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট লিখা
- এই কাজটি যে কোন ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলবে। সার্চ ইঞ্জিন রোবট প্রতিনিয়তই নতুন আর্টিকেল Index করার জন্য প্রস্তুত থাকে। যখনই কোন ব্লগে ভালমানের নতুন কনটেন্ট পায় সাথে তা গ্রহন করে নেয়। আপনি যদি ব্লগে মাসে মাত্র ২/৪ টি পোষ্ট করেন তাহলে আপনার ব্লগ সার্চ রোবটদের মনোযোগ কিছুতেই আকর্ষন করতে পারবে না।
- যার ফলে দেখা যাবে যে ২/৪ টি পোষ্ট মাসে শেয়ার করছেন সেটিও Index হবে না। আর ব্লগের কনটেন্ট Index না হলে ভিজিটর পাওয়ার পরিমান প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসবে। ব্লগে ভিজিটর কমে যাওয়ার মানে হচ্ছে Google AdSense অনুমোদন পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয়া।
ভাল মানের কনটেন্ট
- আমি প্রায়ই এই কথাটি সবাইকে পরামর্শ দিয়ে থাকি যে, ব্লগে সব সময় ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট পোস্ট করতে। কারণ ব্লগে ভিজিটর পাওয়ার জন্য সহজ ও প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মানসস্মত কনটেন্ট। আপনি যখন ব্লগে নিত্য নুতন ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন এই কনটেন্টই আপনার ব্লগে ইউনিক ভিজির নিয়ে আসবে।
- আর যখন ভিজিটররা আপনার ব্লগ পড়ে ভালমানের কনটেন্ট পাবে তখন ব্লগের আরও কনটেন্ট পড়বে এবং তারা পুনরায় আপনার ব্লগ ভিজিট করবেই। অন্যের ব্লগ থেকে কনটেন্ট কপি করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। কপি করা কনটেন্ট দিয়ে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
এসইও ফ্রেন্ডলি পোস্ট লেখা
- আপনার ব্লগে যে কোন ধরনের কনটেন্ট লিখেন না কেন আর্টিকেল অবশ্যই SEO Friendly হতে হবে। এসইও ফ্রেন্ডলি পোস্ট বলতে অনেক জিনিসকেই বুঝায়। যেমন ধরুন- পোষ্টের টাইটেল ভালভাবে লিখা, পোষ্টের ভীতরে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করা, বানান সঠিকভাবে লিখা, পোষ্টের ভীতরের ছবিগুলির Alt ট্যাগ দেয়া, প্রতিটি পোষ্টের ম্যাটা ট্যাগ এর বর্ণনা ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়।
- এ সমস্ত বিষয়গুলো যখন ভালভাবে অনুসরণ করবেন তখন সার্চ ইঞ্জিন সহজে আপনার ব্লগের প্রতিটি পোষ্টের ভাষা বুঝে নিতে পারবে। এ বিষয়টি আপনার ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গ্রহনযোগ্যও করে তুলবে। আর সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ভাল হতে পারা মানে হচ্ছে গুগল এডসেন্স পাওয়ার পথ সুগম হওয়া।
ইউনিক ভিজিটর
প্রতিনিয়তই যখন আপনার ব্লগে নতুন নতুন ভিজিটর আসবে তখন ব্লগটি সবার কাছে পরিচিত হতে থাকবে। সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিনের কাছেও আপনার ব্লগের বিষয় বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার হতে থাকবে। ইউনিক ভিজিটর এর ভীতরেও অনেক বিষয় রয়েছে। গুগল এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিক ভিজিটর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এডসেন্স Policy অনুসরণ
- এ ছাড়াও গুগল এডসেন্স এর বেশ কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। অনেক ব্লগার আছেন যারা কখনও গুগল AdSense Policy পড়ে দেখেননি। অথচ তারা যথা সময়ে গুগল এডসেন্স পাওয়ার আবেদন করছেন। গুগল এডসেন্স পাওয়ার আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই এডসেন্স পলিসি ভালভাবে পড়ে নিবেন।
- পলিসি পড়ার পর যদি মনে করেন যে, আপনার ব্লগটি এডসেন্স এর সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়েছে তাহলে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। তা না হলে গুগল এডসেন্স এর আবেদন করা থেকে বিরত থাকবেন। গুগল এডসেন্স এর নিয়মের সাথে যে বিষয়গুলো না মেলে সেগুলো ইডিট করে নিয়ে প্রয়োজনে আরও কিছু দিন পরে আবেদন করবেন।
কেন এডসেন্স আবেদন দীর্ঘ দিন রিভিউ তে থাকে
গুগল এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার পর এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমোদন করা বা অনুমোদন না করার বিষয়ে কোন ইমেল না পাওয়া অত্যন্ত কমন একটি সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার পর গুগল এ্যাডসেন্স টিম একাউন্টের এর বিষয়ে কোন ধরনের উত্তর না দিয়ে রিভিউ এর জন্য দীর্ঘ দিন যাবত পেন্ডিং রেখে দেয়।
যার ফলে এ্যাডসেন্স এর আবেদনকারী কোন সমাধান না পেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হন। কারন একজন আবেদনকারী চান যে, তার এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমাদন হোক বা বাতিল হোক এ্যাডসেন্স টিম যেন তাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। অনুমোদন না হওয়ার ইমেইল পেলে একজন আবেদনকারী তার ব্লগে এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য কি ধরনের সমস্যা রয়েছে ।
- সেটি সমাধান করে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে এ্যাডসেন্স এর নিকট থেকে কোন ধরনের ইমেইল না পেলে অনুমোদনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপে গ্রহনের জন্য কোন কাজ করে যেতে পারেন না।
কিভাবে এ্যাডসেন্স আবেদন রিভিউ করা হয়?
এডসেন্স এর আবেদন গুগল বট বা এ্যাডসেন্স বট কখনো Review করে না। সব ক্ষেত্রেই একটি এ্যাডসেন্স এর আবেদন গুগল এ্যাডসেন্স এর স্পেশালিস্ট রা Review করে অনুমোদন করে অথবা বাতিল করে। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগ এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য উপযুক্ত হলে অনুমোদন করবে।আপনি আরেকটি বিষয় ক্লিয়ারভাবে জেনে রাখুন ।
যে, আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত পরিমানে কনটেন্ট না থাকে, কপিরাইট কনটেন্ট থাকে, ব্লগের বয়স কম হয়, এডসেন্স নিয়ম না মানেন তাহলে গুগল এডসেন্স টিম কখনো আপনার আবেদনটি Review এর জন্য Pending বা Waiting এ দীর্ঘ দিন রেখে দেবে না।কোন ব্লগে এ ধরনের সমস্যা থাকলে আবেদন পেন্ডিং না রেখে ৩-৭ দিনের মধ্যে আবেদন Reject করে দেবে।
- সেই সাথে আপনার ব্লগের সমস্যা সহ ভবিষ্যতে এডসেন্স এর আবেদন করার পূর্বে কি কি ব্যবস্থা নিবেন সে বিষয়েও সংক্ষেপে একটি নির্দেশনা দেবে।
লেখকের শেষ কথা
আশা করছি গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ২০২৫ ধারনা পেয়েছেন এই আর্টিকেলটিতে, এই আর্টিকেলটি পুরোটা পড়ে যদি আপনাদের সামান্যতম উপকারে আসে তাহলে আপনাদের পরিচিতি মানুষদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর এ ধরনের বা বিভিন্ন রকমের আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইডে ভিজিট করে দেখুন ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url