অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধ করার নিয়ম জেনে নিন
প্রিয় পাঠক আজকে আমরা জানব অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধ করার নিয়ম সম্পর্কে জমিদারি আমলে জমিদারগণ জমির খাজনা আদায় করতেন, যা এখন সরকারিভাবে আদায় করা হয়। দেশের প্রতিটি জমির মালিকেরই জমির খাজনা পরিশোধ করতে হয়।ভূমি উন্নয়ন কর ওয়েবসাইটে খুব সহজে পরিশোধ করা যায় এই আর্টিকেলটি পুরোটা পরুন বুজতে পারবেন

আপনি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হবেন যে, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ্লিকেশন প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকগণ এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করতে পারবেন।

য়েবসাইটে আসার পর আপনি প্রথম নাম্বারে নাগরিক কর্নার অপশনে ক্লিক করুন। অফিস লগিন হল খাজনা অফিসে কর্মকর্তাদের জন্য। উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর হল উত্তরাধিকারের হিসাব করার জন্য আর ১৬২২২ হল ভূমি বিষয়ক যেকোন তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য। যাহোক, আমাদের আলোচনার বিষয় হল নাগরিক কর্ণার।ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে ৩টি ধাপে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে পরিশোধ করতে হবে।
আপনি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হবেন যে, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ্লিকেশন প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকগণ এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করতে পারবেন।
ভূমিকা
এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যায়। বিকাশ, রকেট বা যেকোন মোবাইল ব্যাংকিংয় অথবা যেকোন ভিসা/মাস্টার/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই আপনি আপনার জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। এরজন্য প্রথমে আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নাগরিক নিবন্ধন করে নিতে হবে। এরপর আপনার জমির হোল্ডিং নং সংযুক্ত করে, মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে সহজে স্বল্প সময়েই জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন।
ভূমি উন্নয়ন কর কি
ভূমি উন্নয়ন কর হচ্ছে ভূমি মালিকদের জন্য একটি সত্ব প্রমাণ পত্র। অপরদিকে ভূমি উন্নয়ন কর হচ্ছে সরকারের জন্য একটি আয় এর উৎস। প্রতিটি ভূমি মালিক বছরে একবার তার খতিয়ানে উল্লেখিত জমির পরিমাণ অনুসারে, এবং উক্ত জমিটির পজিশন এবং শ্রেণী ভেদে শতাংশ প্রতি যে অর্থ সরকারকে একটি দাখিলার মাধ্যমে প্রদান করে তাহাই মূলত ভূমি উন্নয়ন কর।অনলাইনে জমির খাজনা দিতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে
আপনাকে অনলাইনে খাজনা প্রদান করতে হলে, যার নামে খাজনা প্রদান করবেন অর্থাৎ খতিয়ান এর অংশীদার যদি হয়ে থাকে তাহলে অথবা খতিয়ানের কোন এক ব্যক্তির ওয়ারিশ হয়ে থাকলে সেই ব্যক্তি অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, এজন্য যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন তাহলে- সর্বশেষ রেকর্ডীয় খতিয়ান অথবা নামজারি খতিয়ান না।
- খতিয়ানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
- একটি সচল ফোনসহ একটি সজল সিম কার্ড এর প্রয়োজন হবে।
- খতিয়ানে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত তাদের ওয়ারিস হলে, ওয়ারিশান সনদপত্র লাগবে।
- ইতিপূর্বে যে সকল ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা হয়েছে তার একটি কপির প্রয়োজন হবে।
অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধ করার নিয়ম
অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে তা পরিশোধ করতে হলে আপনাকে প্রথমে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সরকারি ওয়েবসাইটে চলে আসতে হবে। সাইটে আসার ঠিকানা https://ldtax.gov.bd/ আপনি চাইলে মোবাইল বা কম্পিউটার উভয়ই ডিভাইস দিয়ে সাইটে আসতে পারবেন।য়েবসাইটে আসার পর আপনি প্রথম নাম্বারে নাগরিক কর্নার অপশনে ক্লিক করুন। অফিস লগিন হল খাজনা অফিসে কর্মকর্তাদের জন্য। উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর হল উত্তরাধিকারের হিসাব করার জন্য আর ১৬২২২ হল ভূমি বিষয়ক যেকোন তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য। যাহোক, আমাদের আলোচনার বিষয় হল নাগরিক কর্ণার।ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে ৩টি ধাপে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে পরিশোধ করতে হবে।
যেটার প্রথম ধাপ হলো নাগরিক নিবন্ধন। প্রথমে আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে দিয়ে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আপনি একবার নিবন্ধন করলে পরিবর্তিতে আর কখনও নিবন্ধ করতে হবে না।
১ম ধাপঃ নাগরিক কর্নারে ক্লিক করার পর আপনাকে নাগরিক নিবন্ধন পেইজে নিয়ে আসা হবে। যেখানে মোবাইল নাম্বার দেওয়ার পর ক্যাপচা হিসাবে দুটি সংখ্যার যোগফল বসাতে হবে। নিচের চিত্রটি খেয়াল করুন।সব গুলো তথ্য বসানোর পর পরিবর্তী পদক্ষেপ বাটনে ক্লিক করুন। সব তথ্য ঠিক থাকলে আপনার দেওয়া প্রদত্ত ফোন নম্বারে একটি কোড যাবে। কোডটি বসিয়ে যাচাই করুন অপশনে ক্লিক করুন।তারপর আপনাকে পরবর্তী পেইজে নিয়ে আসা হবে।
যেখানে আপনাকে একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। আপনার ইচ্ছেমতো একটি পাসওয়ার্ড বসিয়ে সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করুন। অবশ্যই পাসওয়ার্ডটি দিয়ে পরবর্তীতে উক্ত সাইটে লগইন করতে এবং জমির খাজনা অনলাইনে পরিশোধ করতে প্রয়োজন হবে। তাই পাসওয়ার্ডটি সেভ অথবা নোট করে রাখুন। মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করার পর আপনি ড্যাশবোর্ডে চলে আসবেন।
এই সাইটটি রেস্পন্সিভ ও মোবাইল-ডেস্কটপ ভিউ একই হওয়ার কারণে স্ক্রিনশটগুলো ডেস্কটপ থেকেই দিচ্ছি।
২য় ধাপঃ এই ধাপে আপনার প্রোফাইলটিকে ১০০% সম্পন্ন করতে হবে। প্রোফাইলটি সম্পন্ন করতে কম্পিউটারের বাম পাশ থেকে প্রোফাইল ট্যাবে ক্লিক করুন। আর মোবাইল ব্যবহারকারীরা বাম পাশের 3ডট (…) থেকে প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করুন।এখানে এন.আই.ডি নাম্বার ইনপুট দিলে উপরের ছবিতে দেখনো সব তথ্য দেখতে পাবেন।
এ পর্যায়ে আপনাকে বেশ কিছু তথ্য দিয়ে খতিয়ান নিবন্ধন করতে হবে।
এ পর্যায়ে আপনাকে বেশ কিছু তথ্য দিয়ে খতিয়ান নিবন্ধন করতে হবে।
এজন্য খতিয়ান ট্যাবে ক্লিক করুন যে সকল তথ্য দিতে হবে সেগুলো হলোঃ
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা
- মৌজা ও
- খতিয়ান নাম্বার যুক্ত করতে হবে।
- আপনার কাছে যদি হোল্ডিং নাম্বার থাকে সেটি দিতে পারেন।
- যদি হোল্ডিং নাম্বার না থাকে, সেক্ষেত্রে না দিলেও চলবে।
- সব গুলো তথ্য দেওয়ার পর সংযুক্তি অপশনে ক্লিক করে খতিয়ান বা দাখিলার একটি স্বচ্ছ ছবি সংযুক্ত করতে হবে।
- খেয়াল করুন, আপনার প্রদত্ত ছবিটির সাইজ ১ MB’র বেশি হলে হবে না।
- তাই ছবিটি ১ MB নিচে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ফটোশপ বা কোন সফটওয়্যার দিয়ে কাট-ছাট করে নিন।
- TinyPNG ব্যবহার করে যেকোন ছবির কোয়ালিটি না কমিয়ে সাইজ কম্প্রেস করতে পারেন।
যদি সমস্ত তথ্য সঠিক থাকে, তবে তারা এটি নিশ্চিত করবে এবং আপনি পরবর্তীতে পেমেন্ট পরিশোধ করে রসিদ পেতে পারবেন।খতিয়ান’ অপশন থেকে আপনার জমির সমস্ত খতিয়ানের তথ্য নির্বাচন করুন এবং সংযুক্ত করুন। কয়েকদিন পরে, আবার এই ওয়েবসাইটে আসুন এবং ‘নাগরিক কর্নার’ থেকে লগইন অপশনে প্রবেশ করে ফোন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।লগইন করার পর উপরের দিকে প্রোফাইল পার্সেন্টেজ চেক করতে পারেন।
যদি এটি ১০০% না হয়, তাহলে ‘প্রোফাইল’ অপশনে গিয়ে আপনার বর্তমান ঠিকানা ও ইমেইল ঠিকানা নিশ্চিত করুন এবং সেগুলো সংরক্ষণ করুন। এর ফলে, প্রোফাইল পার্সেন্টেজ ১০০% সফলভাবে পূর্ণ হবে। সেই পেজের উপরের দিকের ছবিতে আপনি ১০০% পূর্ণ দেখতে পাবেন। এই ধাপগুলো উত্তীর্ণ হওয়ার পরে, নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসারে অনলাইনে আপনার জমির খাজনা সহজেই পরিশোধ করা যাবে।উপরে দেওয়া ছবিটি খেয়াল করলে দেখবেন ১০০% দেখাচ্ছে।
এবার অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে নিচের নিয়মে খাজনা পরিশোধ করুন।
অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম
প্রোফাইলে লগিন করা অবস্থায় বাম পাশের মেনুবার থেকে হোল্ডিং ট্যাবে ক্লিক করুন। সেখানে আপনি আপনার খাজনা গুলোর স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। যদি দেখেন অনুমোদিত তাহলে আপনাকে Congratulation, আর যদি পূর্বের ন্যায় দেখেন তাহলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।এপর্যায়ে আপনি যে জমির খাজনা পরিশোধ করবেন তার পাশে বিস্তারিত বাটনে ক্লিক করুন।সেখানে জমি সম্পর্কিত তথ্য অর্থাৎ খাজনা পরিশোধের সময়, বকেয়া টাকা, কত টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ইত্যাদি তথ্য দেখতে পাবেন।অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে এখন আপনি যদি কর পরিশোধ করতে চান তাহলে একটু নিচ থেকে অনলাইন পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে বাংলাদেশের কতগুলো মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক একাউন্ট দেখাবে।
এখন আপনি যেটির মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে চান সেটি সিলেক্ট করুন। তারপর আপনার সামনে বকেয়া টাকা সহ বিস্তারিত তথ্য দেখাবে।সবগুলো দেখে পেমেন্ট করতে চাইলে ই-পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার ব্যাংকিং তথ্য ও পাসওয়ার্ড দিয়ে কনর্ফম করলেই আপনার অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম অনুসারে সফলভাবে পরিশোধিত হয়ে যাবে।
সফল ভাবে পেমেন্ট করা শেষে ৭২ ঘান্টা পর আপনি আবারও সাইটে লগইন করে দাখিলা অপশনে ক্লিক করে আপনার রসিদটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এভাবে খুব সহজে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।
সফল ভাবে পেমেন্ট করা শেষে ৭২ ঘান্টা পর আপনি আবারও সাইটে লগইন করে দাখিলা অপশনে ক্লিক করে আপনার রসিদটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এভাবে খুব সহজে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জেনে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url